রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার আইজি গেট কলোনি বস্তিটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পুরো প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ে সহায়তা প্রদান করে শ্যামপুর মডেল থানা-পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই আইজি গেট কলোনি বস্তিটি দীর্ঘ সময় ধরে মাদক ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে এই বস্তিটি পরিচিতি লাভ করেছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
ডিএমপির ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আইজি গেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদকদ্রব্যের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নিয়মিত আনাগোনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।”
এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে শ্যামপুর মডেল থানা-পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে মাদকবিরোধী অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অন্যতম প্রধান ঘাঁটিটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শ্যামপুর থানা-পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজি গেট এলাকায় মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মোট ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়। এছাড়া ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ২৫১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩৮৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।