কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক ভয়াবহ বজ্রপাতে বিদ্যালয়ের মাঠের একটি রেইনট্রিগাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এই আকস্মিক ঘটনার সময় বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দে তিন ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এছাড়া আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার সময় আরও চার শিক্ষার্থী আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর তাদের অভিভাবকদের ডেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, বজ্রপাতের বিকট শব্দে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছাইমা আক্তার ও সানজিদা খানম এবং নবম শ্রেণির ছাত্রী নোভা আক্তার।
পাশাপাশি, ষষ্ঠ শ্রেণির মোছা. মীম ও মো. নকিব এবং সপ্তম শ্রেণির নুসরাত জাহান সেবা ও মো. ফাহিম বজ্রপাতের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে সামান্য আহত হন। মোট সাতজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে টিফিন বিরতির সময় হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বজ্রপাতে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষের পাশে থাকা একটি রেইনট্রিগাছ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। বজ্রপাতের সেই বিকট শব্দে তিন ছাত্রী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং ভয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আরও চার শিক্ষার্থী আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, বজ্রপাতে রেইনট্রিগাছটির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ফেটে গেছে। গাছের বিভিন্ন অংশের বাকল খসে পড়েছে। গাছটির অবস্থা দেখতে স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে।
নবম শ্রেণির আহত শিক্ষার্থী নোভা আক্তার জানান, “ঘটনার সময় সে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামছিল। হঠাৎ বজ্রপাতের আলোর ঝলকানি ও বিকট শব্দে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে শিক্ষকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন।”
কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাছমিন আক্তার বলেন, “বজ্রপাতের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”