শিক্ষকদের যেকোনো ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির পাশে থাকবে সরকার বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, সরকারের সক্ষমতা এবং বর্তমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষকসমাজের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি এবং তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ কর্তৃক আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করবে।
সমাবেশটির সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হতো, যা বর্তমান সরকার বাড়িয়ে শতাধিক করেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে যেসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছেন এবং যারা হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস এবং বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষকদের যে অবদান রয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক থাকবে। তিনি বলেন, “সরকারের সক্ষমতা ও সার্বিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকসমাজের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে।”
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করার কথা জানান মাহদী আমিন। এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি মনে করেন, দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি। তাঁর মতে, শিক্ষকসমাজই রাষ্ট্র রূপান্তর ও উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দুই হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করে তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিএনপির শাসনামলে শিক্ষকদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের স্বার্থে বহুবিধ কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ স্থাপন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো বিএনপির নেতৃত্বেই শুরু হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ ও ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল।