বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেবল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পাসের হার প্রদর্শনের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করা হয়েছিল। এমনকি খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর উচ্চপর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো বলে তিনি জানান।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে একটি শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এই কথাগুলো বলেন।

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার গুরুদায়িত্ব এখন শিক্ষকসমাজকেই নিতে হবে বলে মনে করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন, "একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের ফলে দেশের শিক্ষার মান আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। পাঠ্যবইয়ের পাতায় নৈতিক শিক্ষার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তির গুণকীর্তন এবং ছবি প্রদর্শনীকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "বিএনপি সব সময় প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে।"

তিনি আরও জানান, শিক্ষকসমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিএনপি অত্যন্ত সচেতন। বিএনপির ভিশন ও পরিকল্পনায় শিক্ষকসমাজ কখনোই তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঐক্যজোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, সহ–অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ।