আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের দ্বারা সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) এই দায়িত্ব অর্পণ করে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে রাজউককে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।”

বৃহস্পতিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজউকের সামগ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া অতীতে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম হয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের যে দৌরাত্ম্য পরিলক্ষিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

শহরের পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্যে সমন্বিত ইউটিলিটি ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকার লেকগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া ঢাকা শহরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করার সুপারিশও করা হয় বৈঠকে।

নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি। আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত নিরীক্ষা সম্পন্ন করার এবং অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

উক্ত বৈঠকে কমিটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও সিএজি কার্যালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।