হৃদরোগে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক ও অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব হার্ট দিবস পালন এবং পপুলার ক্যাথ ল্যাবের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাবনা পেশ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পপুলার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হৃদরোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুততম সময়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অন্তত পাঁচটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে বেসরকারি উদ্যোগে একটি কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালু করার কথা বলা হয়। তিনি জানান, এক বছর এই কার্যক্রম পরিচালনার পর প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা জোরদারের প্রতিশ্রুতি সরকারের ইশতেহারে রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর মতে, একটি সমন্বিত ও কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে একদিকে যেমন জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এটি সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগী এবং তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের যোগাযোগের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, “যেকোনো চিকিৎসা বা হস্তক্ষেপের আগে রোগী ও স্বজনদের কাছে পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাপদ্ধতি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হলে ভুল বোঝাবুঝি ও আক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।”

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভুইয়া মাসুমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদের বিটু প্রমুখ।