বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ ২২ বছর বন্দি থাকা সুলতান হাওলাদার (৬৪) নামে এক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃত সুলতান হাওলাদার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রব হাওলাদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটি হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে আদালত সুলতান হাওলাদারকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিলেন।
কারাগার সূত্রে আরও জানা গেছে যে, সুলতান দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। আজ সকালে হাসপাতালের সিসিইউ/মেডিকেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর আইনি নিয়ম অনুযায়ী লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। জেলার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, “সুলতান হাওলাদার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। তবে ২০০৪ সালের পুরোনো মামলা হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক ফাইল পর্যালোচনা না থাকায় সুনির্দিষ্ট কোন হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।”