কলকাতার সাবেক মেয়র এবং সিপিআইএম-এর রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে এক দুঃসাহসিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এই আক্রমণ পুরো কলকাতায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভোরবেলায় একদল দুষ্কৃতকারী দক্ষিণ কলকাতার পূর্বালোকে অবস্থিত তাঁর বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয় এবং সেখানে তাণ্ডব চালায়। পুরো ঘটনার দৃশ্য ওই বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দুষ্কৃতকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে নিজেদের মুখ এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ঢেকে এসেছিল। তারা প্রথমে বাড়ির সামনের সিসিটিভি ক্যামেরাটি গুঁড়িয়ে দেয় এবং এরপর বাসভবন লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট ও মদের বোতল ছুড়তে থাকে। হামলা চলাকালে দুষ্কৃতীদের মুখে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দেওয়ার কথা জানা গেছে।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা বলেন, “এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ।” তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের এই ধরনের হুমকিতে তিনি মোটেও ভীত নন। তবে আত্মরক্ষার তাগিদে তিনি দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন।
১৯৫১ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ভারতের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কলকাতা পৌর সংস্থার মহা নাগরিক বা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের একজন প্রবীণ ও অত্যন্ত প্রভাবশালী আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে সারদা ও নারদার মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি মামলার আইনি লড়াইয়ে তিনি প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজনীতির ময়দানেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতের উচ্চকক্ষে সিপিআই(এম)-এর সংসদীয় দলনেতার দায়িত্ব সামলান।
সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রাজ্যসভার ভেতরে ও বাইরে বিজেপি সরকারের নানা নীতি, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সংবিধান রক্ষা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি দেশের বিভিন্ন নাগরিক মঞ্চে নিয়মিত কথা বলে আসছেন। তাঁর এই কট্টর মোদিবিরোধী ও গেরুয়া শিবিরবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে প্রায়ই বিরোধী শিবিরের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
বিকাশ ভট্টাচার্য সম্প্রতি বিরোধীদের ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ আয়োজিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। এই আন্দোলনের মঞ্চে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভয় থিপসে, প্রবীণ রাজনীতিক সলমন খুরশিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব, সংসদ সদস্য সৌগত রায় এবং শিক্ষাবিদ অপূর্বনন্দ ঝা-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।