পাবনা শহরের লস্করপুর টার্মিনাল এলাকায় সংবাদকর্মী নবী নেওয়াজকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর তিন named ব্যক্তির পাশাপাশি আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পাবনা সদর থানায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনা জজ কোর্ট থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন নবী নেওয়াজ। লস্করপুর টার্মিনাল সংলগ্ন একটি গেটের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের সামনে তিনি এই হামলার শিকার হন।

আক্রান্ত সাংবাদিক নবী নেওয়াজ মহেন্দপুর এলাকার মৃত আবু সামা মিয়ার পুত্র। তিনি বর্তমানে গাজী টেলিভিশনের (জিটিভি) পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার কারণে মো. ইবাদ শেখ (ওরফে ড্রাইভার ইবাদ), মো. আমিন উদ্দিন এবং শ্রী মিলন গোবিন্দ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য গালিগালাজ করতে শুরু করেন। নবী নেওয়াজ এর প্রতিবাদ করলে ইবাদ শেখ তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে তার মাথায় কোপ মারেন। তিনি হাত দিয়ে সেই কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করায় তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। এই নির্মম আক্রমণে তার মাথার পেছনে, হাত, পিঠ, বুক, মুখ, গলা ও পাসসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার সময় তার শার্টের পকেটে থাকা নগদ ২০০ টাকা এবং একটি হেডফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নবী নেওয়াজকে উদ্ধার করে পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) নাহিরুল ইসলাম জানান, "একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এদিকে, একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিদ এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এবং তা না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।