রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। গত মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এই বিশেষ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার ও কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস।
সাক্ষাৎকালে রাম দাস বাংলাদেশে কেয়ারের পথচলার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন, যার সূচনা হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৪৯ সাল থেকে কেয়ার বাংলাদেশ দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সময়ে যোগাযোগব্যবস্থার আমূল উন্নয়নে ৮৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়, যার ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
রাম দাস আরও জানান, পরবর্তী সাত দশকে কেয়ার তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিক্ষা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং তৈরি পোশাক খাতের নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করছে। আগামী দিনগুলোতে কেয়ার বিশেষ গুরুত্ব দেবে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা, যুব দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেয়ার বাংলাদেশকে দেশে একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সংস্থাটির দীর্ঘ কয়েক দশকের নিরলস কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দিনগুলোতে সংস্থাটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করার আহ্বান জানান।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।