সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় মরাচেলা বা সোনালী চেলা নদীর পাড় অবৈধভাবে কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এই পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে দোয়ারাবাজার থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) ধারায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের তালিকায় দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার ৩৬ জন এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— দোয়ারাবাজার উপজেলার চাইরগাঁও গ্রামের জয়নাল আবেদীন মেম্বার (৫৫), সোনাপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান বোঘ (৫৫), হাবিবনগর গ্রামের জহর মেম্বার (৫৫), ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান (৬০), পূর্ব সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৩৫), সোনাপুর গ্রামের ধন মিয়া মেম্বার (৬০), নরসিংপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫৫), ফখরুল ইসলাম (৪০), হাবিবনগর গ্রামের নিজাম উদ্দিন নিধান (৫২), পূর্ব সোনাপুর গ্রামের ফরিদ মিয়া (৪৫), শরীফ মিয়া (৩৫), মনসুর আলী (৪০), সিদ্দিক মিয়া (৪৫), চেনু মিয়া (৪০), হাবিনগর গ্রামের জামশেদ মিয়া (৬২), সোনাপুর গ্রামের আলা উদ্দিন (৪০), পূর্ব সোনাপুর গ্রামের মো. ওমর (৪০), রফিক মিয়া (৩৮), সোনাপুর গ্রামের কালাম ডাক্তার (৪৮), পূর্ব সোনাপুর গ্রামের আইনুদ্দিন (৪০), সোনাপুর গ্রামের সাদ্দাম মিয়া (৩৫), সানির মিয়া (২৫), মনির মিয়া (২২), জালাল মিয়া (৫৫), হাবিবনগর গ্রামের মাসুক মিয়া (২৮), সমুর মিয়া (৪০), বসির মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩৫), আবুল কালাম (৪৫), চারগাঁও গ্রামের নুরু মিয়া (৪৪), নরসিংপুর গ্রামের বকুল মিয়া (৩৫), সোনাপুর গ্রামের মো. আলী (৪০) ও শফিকুল ইসলাম (৪৫)।

এছাড়া ছাতক উপজেলার রহমতপুর গ্রামের দ্বীন ইসলাম (৪৫), নোয়াগাঁও গ্রামের বুলবুল আহমদ (৪৮), ইসলামপুর গ্রামের লিটন মিয়া (৪০) এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩) এই মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে সোনালী চেলা নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে জানা যায় যে, মামলায় উল্লেখিত আসামিরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছেন। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে, আসামিরা গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এই ১০ দিনের ব্যবধানে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনফুট বালু লোড-আনলোড করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, “আসামিরা অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। এ কারণে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করবেন।”