ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের নওদা আসনের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিতণ্ডার জেরে বুধবার তাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা রেজিনগর থানায় আটকে রাখা হয়। রাতে থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আম আদমি উন্নয়ন পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশি মদদে ভোট লুট করা হয়েছে, যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

রেজিনগরের ভোটারদের প্রতি হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি পারলাম না, আমাকে ক্ষমা করবেন। আগামী দিনে আমি রাজনীতি এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে চাই, বিদায় নিতে চাই। অন্যায়ের কাছে নত হওয়ার মানুষ আমি নই। সারা জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, লড়াই করেছি। আর পারছি না অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে।’

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—এই দুটি আসনেই জয়লাভ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি নওদা আসনটি ধরে রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই শূন্য হওয়া আসনেই উপনির্বাচনে তিনি তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান।

বুধবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, পুলিশ নিজেই ভোট লুটে সহায়তা করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হলে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হুমায়ুন কবীর আরও দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, রেজিনগরে তিনি নিজে ৫৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন, তাই এবার তাঁর ছেলে অন্তত ৩০ হাজার ভোটে জিতবেন। তবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রেজিনগরের সাধারণ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি।

হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর তিনি এই প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৩০০ কোটি রুপি ব্যয়ে এই মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। ভোট কারচুপির অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, হুমায়ুন কবীর এর আগেও অন্তত ১৭ বার রাজনীতি ছাড়ার নাটক করেছেন। এই বিজেপি নেতা রাজ্যবাসিকে সতর্ক করে বলেন যে, তাঁর এই ‘কুমিরের কান্নায়’ যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।