ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৬তম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ভোটে জয়ী হয়ে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন দখল করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই পরাজয়ের পর তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয় এবং জয়ী ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন দল ছেড়ে আলাদাভাবে 'তৃণমূল' গঠন করেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই নতুন দলটিকে রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনিই হয়েছেন বিরোধী দলের নেতা।
এ বছরের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার ভবানীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়ী হন। একই সময়ে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর জয়লাভ করেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র ভবানীপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন, ফলে তার বিধানসভার আসন শূন্য হয়ে যায়।
নির্বাচনে জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীর নওদা আসন ত্যাগ করেন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি চাইছে এই আসনগুলো জিতে তাদের শক্তি প্রমাণ করতে, আর তৃণমূল চাইছে মমতার ভাবমূর্তি নিয়ে জয়ী হতে। কংগ্রেস ও বাম দলগুলোও বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাজিত করে জয়ের লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে।
উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর, আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান শিবির, জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএম এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থীদের ঘোষণা করেছে। বিজেপি এখনো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান, তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান এবং সিপিএমের প্রার্থী শান্তি গোপাল গিরি। বিজেপি ঘোষণা করেছে চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথকে। চন্দ্রনাথ রথ এবারের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের হাতে খুন হন।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে হুমায়ুন কবীরের স্থলে তাঁর পুত্র গোলাম নবী আজাদকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে প্রচারের আলোতে ছিলেন। তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী, কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল্লাহ হিল কাফি এবং সিপিএমের প্রার্থী সইফ আসাদ আলী। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির নন্দীগ্রামে এহতেশামুল হক এবং রেজিনগরে শফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই 'জোড়া ফুল' প্রতীক নিয়ে লড়তে চাইছে। নির্বাচন কমিশনে উভয় পক্ষের ৫ করে মোট ১০ সদস্যের শুনানি হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি যে কে জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে লড়বে। নির্বাচন কমিশন ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নথিপত্র চেয়েছে। সেই নথিপত্র জমা দেওয়ার পরই কমিশন নতুন করে সিদ্ধান্ত জানাবে, অথবা জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দুই দলকে আলাদা প্রতীক দিয়ে লড়ার নির্দেশ দেবে।