পেশিশক্তির মাধ্যমে দলেরই অন্য এক নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদার দাড়িয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হিরণ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফাকে মারধরের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবদল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দিদার দাড়িয়ার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির যৌথ সিদ্ধান্তে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বহিষ্কৃত দিদার দাড়িয়ার কোনো ধরনের অপকর্মের জন্য দল কোনো দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। যুবদলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় না রাখেন। একই সাথে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মান্নান শেখ বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত কারও স্থান যুবদলে নেই।” তিনি আরও জানান, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কেন্দ্রীয় যুবদলের এই সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

অন্যদিকে, বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে দিদার দাড়িয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কমেন্ট ও পোস্টের কারণে কিছু লোকের সঙ্গে আবু হানিফার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনা না জেনেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

দিদার দাড়িয়ার দাবি, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।