বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) বুধবার (৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে ‘বিইউএফটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬ (৩.০)’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবসায়িক সমাধান, উদ্ভাবন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তারা এবং শিল্প খাতের অভিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ।

বিইউএফটি বিজনেস ক্লাবের উদ্যোগে এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সার্বিক সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনটি ৭ ও ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতায়ন: উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর’। উদীয়মান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করা যায়, সেটিই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিইউএফটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মেসবা উদ্দিন আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আইয়ুব নবী খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন মালয়েশিয়ার স্পেকট্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়সারুল হক, বিইউএফটির ভারপ্রাপ্ত সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসেন এবং রেজিস্ট্রার মো. রফিকুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ আবদুর রহিম, বিইউএফটির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, দারাজ এক্সপ্রেসের প্রধান এইচ এম আশিক আলাহী, রাজিব ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাজিব হোসেন, এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইনুর রহমান ভূঁইয়া, ডাবর বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় বিভাগের প্রধান নাহিদ আশিকুজ্জামান এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেতা রাকিন আবসার। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধানরাও উদ্বোধনী পর্ব ও বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিল্প খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং নেটওয়ার্কিং করার সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যবসায়িক নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ভূমিকা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল ৮ অক্টোবরও মেলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।