সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের যে সকল পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণের জন্য সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এর পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার বিষয়েও কমিটির পক্ষ থেকে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। উক্ত বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আবদুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে চলমান ফিডিং কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা করে কমিটি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং খাবারের সঠিক মান বজায় রাখার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে কমিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, ফিডিং কার্যক্রমে মান নিশ্চিত করা না হলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, সে বিষয়েও বৈঠকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট-এর ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারি বিভাজন, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বাজেট বিভাজন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করার পর কমিটির সদস্যরা দেশের প্রতিটি শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ জানান। এছাড়া কমিটির সকল সদস্যকে পরামর্শ দেওয়া হয় যেন তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চালু থাকা অবস্থায় নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।