ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে, মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সব আলো তখন নিভে আসা। লিওনেল মেসি এবং গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের দৃষ্টি তখন আকাশের দিকে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ ড্রোন শো। কিন্তু প্রত্যাশিত মেসির ছবির বদলে শুরুতেই আকাশে ভেসে ওঠে একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। আর তা দেখামাত্রই গ্যালারি থেকে শুরু হয় তীব্র দুয়ো।
বেনিনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করার পর এই ড্রোন শো আয়োজন করা হয়েছিল মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। পরিকল্পনা ছিল শত শত ড্রোনের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো আকাশে ফুটিয়ে তোলা হবে।
তবে মূল সম্মাননা পর্ব শুরু হওয়ার আগেই ড্রোনের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় বিমা প্রতিষ্ঠান সানকোর সেগুরোসের লোগো ও নাম। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অন্যতম স্পনসর।
এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি মনুমেন্তালের দর্শকেরা মোটেও ভালোভাবে নেননি। বিজ্ঞাপনটি ফুটে ওঠার সাথে সাথেই স্টেডিয়ামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিস ও দুয়োর শব্দ শোনা যায়। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ক্লারিনও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ড্রোন শোর শুরুতে বিজ্ঞাপন দেখানোর পর গ্যালারিতে দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে প্রথমে ওই প্রতিষ্ঠানের লোগো এবং পরবর্তীতে নাম দেখানো হয়। সেই মুহূর্তে মেসি নিজেও মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
মুহূর্তের মধ্যেই এক্স ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিদায়ের মতো এমন এক আবেগঘন মুহূর্তে মেসিকে ঘিরে আয়োজনের শুরুতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অসংখ্য সমর্থক। এই সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়াও।
তবে তাপিয়াকে ঘিরে দর্শকদের অসন্তোষ কেবল এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্লারিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ম্যাচের আগেও মনুমেন্তালের গ্যালারি থেকে তার বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা গিয়েছিল। ড্রোন শোর বিজ্ঞাপনের পর সেই স্লোগান আবারও জোরালোভাবে ওঠে।
বিজ্ঞাপন প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর ড্রোন শো পুনরায় মেসির প্রতি উৎসর্গ করা হয়। এরপর আকাশে ফুটিয়ে তোলা হয় তার আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি, আর্জেন্টিনার হয়ে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্ত এবং বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় স্মৃতিগুলো।