গাড়ি থেকে নামার পরপরই সংবাদকর্মীদের ভিড়ে পড়ে গেলেন অভিনেতা আরিফিন শুভ। অভিনেতার হেঁটে আসার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছিলেন সাংবাদিকরা। সরাসরি হলরুমে প্রবেশ করেন শুভ, যেখানে মাঝামাঝি সারিতে সালাহউদ্দিন লাভলুসহ আরও অনেকে বসে ছিলেন। সেখানেই গিয়ে বসলেন তিনি। এরপরই সেখানে উপস্থিত হন নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং শুরু হয় তাঁদের প্রাণবন্ত আড্ডা। তাঁদের এই আলাপচারিতা তখন সংবাদকর্মীদের ক্যামেরার ফোকাসে ছিল।

একপর্যায়ে হাস্যরসের সাথে তিশা বলেন, ‘ভাইয়েরা, আমাদের বসে থাকার ভিডিও না করে চলুন, আমরা “হ্যাপিলি ম্যারিড” দেখি।’ এই হালকা রসিকতার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় ওয়েব সিনেমার প্রদর্শনী।

চরকির প্রযোজনায় এবং ছবিয়ালের সহ-প্রযোজনায় ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাহিদ প্রীতম। আজ রাত ১২টায় চরকি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে এই ওয়েব ফিল্মটি। মুক্তির আগে গত সোমবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সিভিক সেন্টারে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। প্রিমিয়ার শেষে তাঁর অভিনয়ের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়। দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শুভ বলেন, ‘আপনারা আমাদের “হ্যাপিলি ম্যারিড” সিনেমাটি সবাই দেখুন। সবাইকে দেখতে বলুন।’ সিনেমাটি কেন দেখা উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যাঁরা বিয়ে করেছেন, যাঁরা বিয়ে করবেন, তাঁরা ওয়েব ফিল্মটি অবশ্যই দেখুন। এটা বিবাহিত অবিবাহিত অনেকের জন্যই অনেক কিছুই শেখাবে। দেখলেই বুঝবেন। আর যদি বলেন বিবাহিত জীবনে হ্যাপি থাকার রেসিপি কী? তাহলে আমি বলব, বিবাহিত জীবনে হ্যাপি থাকার রেসিপি হ্যাপিলি ম্যারিড। আর প্রতি সপ্তাহে একবার করে হ্যাপিলি ম্যারিড দেখা। প্রতি শুক্রবারে সিনেমাটি দেখলেই আপনি হ্যাপিলি ম্যারিড থাকতে পারবেন।’

চলচ্চিত্রটিতে শুভকে ঘরের যাবতীয় কাজ এবং রান্নাবান্না করতে দেখা গেছে। বাস্তবে তিনি কী রান্না করতে পারেন, জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘ডিম সেদ্ধ, ডিম ভাজি, চা, কফি, নুডলস রান্না করতে পারি। ভাত রান্না শিগগির শিখে ফেলব। পুরো রপ্ত করতে পারিনি।’

সিনেমাটির সহ-প্রযোজক অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা জানান, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের মোট ১২টি গল্পের মধ্যে একটি হলো ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারকেন্দ্রিক ভালোবাসার সময় উপযোগী একটি গল্প। এর মধ্যে দুটি জেনারেশনের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ইমোশন কেমন হয়, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এমন গল্প দর্শকেরা পছন্দ করবেন। কারণ, এখন দর্শকের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। আমরা খুবই হ্যাপি।’

সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আনিস ও অনামিকার বিবাহিত জীবনকে কেন্দ্র করে। তাঁরা দুজন ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ এবং তাঁদের বয়সের ব্যবধান বেশ বেশি। আনিস চরিত্রটি কিছুটা সেকেলে; যার জীবন কাটে চাকরি, ঘরের রান্নাবান্না এবং গাছপালার পরিচর্যার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অনামিকা অত্যন্ত চটপটে এবং বেশির ভাগ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। তাঁদের দুজনের মতামতের নানা অমিল এই গল্পের মূল উপজীব্য। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল।

নিজের চরিত্র সম্পর্কে কেয়া পায়েল বলেন, ‘এই গল্পে দর্শকেরা আমাকে ভিন্নভাবে দেখবেন। যেখানে একটি মেয়ে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। মেয়েটির বিয়ে ও বিয়ের পরের ক্রাইসিস তুলে ধরা হয়েছে। এটি সবার ভালো লাগবে।’

অনুষ্ঠানে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘এটা এই সময়ে বলার মতো একটা গল্প। মানুষ তার চারপাশ নিয়ে এত চিন্তিত থাকে যে সময়টা বা জীবনটা উপভোগ করতে ভুলে যায়। এই কনটেন্টটা কিছুটা হলেও দর্শককে নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে।’ এছাড়া এই ওয়েব ফিল্মে আরও অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, আরেফিন জিলানী এবং তুষার খান।