বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজকের একনেক সভায় এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে রামপালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন দায়িত্ব পালন করবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের বিপরীতে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রামপালে এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না। ২০১২ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিপিডিবি রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। সেই জমির একটি অংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় ইতিমধ্যে জমি উন্নয়ন এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে। এই অব্যবহৃত জমিতেই নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখানে ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মোট ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার এবং একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপনের কথা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্টহাউস, মসজিদ এবং একটি তিনতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। ‘৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হবে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং বাকি ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ২০ বছর ধরা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যে ২০ বছর অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় বর্তমানেও মিটারগেজ লোকোমোটিভের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।