গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার আওতায় মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ১০ মাস ধরে চলা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কথা গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা সরকার শাসনভার গ্রহণ করে। এর পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার মিয়ানমার নাগরিক জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমার শরণার্থী মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী আশ্রয় প্রদান এখন তাদের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি এর ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করে। এই জটিল পরিস্থিতি বিবেচনা করেই চলতি বছরের জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে শরণার্থী ও অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ফেরত পাঠানো এই ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে গতকাল মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের কোনো প্রকার ক্ষতি করা হবে না বলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।
গত মাসে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, দেশে ফিরতে ইচ্ছুক মানুষদের প্রত্যাবাসন হবে ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’।
তবে এই আশ্বাসের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইয়াপ লে শেং বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “মিয়ানমারে ফেরত মানুষদের সঙ্গে জান্তা সরকার কেমন আচরণ করবে, তা আগেভাগে বলার কোনো উপায় নেই।”