নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে আবুল কাশেম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৌর শহরের বালিকান্দি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই কিশোরী ঘরের পাশে রাতের খাবারের পানি ফেলতে গিয়েছিল। সেই সুযোগে আবুল কাশেম তাকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন ওই কিশোরী তার প্রতিবেশী এক নারীর কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রী উল্টো কৌশল অবলম্বন করেন এবং ওই কিশোরীকে তার স্বামীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

এই অমানবিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ওই কিশোরীর বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় এবং এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে জীবনযাপন করেন। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার সকালে সংবাদকর্মীরা ওই এলাকায় পৌঁছালে কিশোরীটি তাদের কাছে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করে। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দুর্গাপুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে লিখিত এজাহার নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকালে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।”