আর মাত্র একটি ম্যাচ। তারপরই সব শেষ।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটির মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ঘটবে।
মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যাত্রা শেষ হয়ে গেলেও, দেশটির ফুটবলে তাঁর প্রভাব ও পায়ের ছাপ অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর ঝুলিতে থাকবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা এবং অসংখ্য রেকর্ড। এর মধ্যে এমন কিছু কীর্তি রয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি
জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা বর্তমানে ১২৫। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছেন লাওতারো মার্তিনেজ, যার গোলসংখ্যা ৪২।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও মেসির দখলে। তিনি আলবিসেলেস্তের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মোট ২০৭টি ম্যাচে। এই নজির শুধু আর্জেন্টিনার ইতিহাসেই নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়দের মধ্যেও জাতীয় দলের হয়ে এত বেশি ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে অনন্য।
মেসির পেছনে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন হাভিয়ের মাচেরানো, যিনি ১৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন। এরপর আনহেল দি মারিয়া ও হাভিয়ের জানেত্তি ১৪৫টি করে ম্যাচ খেলেছেন। নিকোলাস ওতামেন্দি খেলেছেন ১৩৯টি ম্যাচ। উল্লেখ্য, ওতামেন্দিও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আলবিসেলেস্তের জার্সিকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোল
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি করেছেন ২১টি গোল, যা সামগ্রিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মেসির চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (২২টি)। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসির পরে আছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, যার গোলসংখ্যা ১০। গিয়ের্মো স্তাবিলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনা করেছেন ৮টি করে গোল।
শুধুমাত্র গোল নয়, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও মেসির। তিনি মোট ৩৪টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, যা একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড। তাঁর সবচেয়ে কাছের দুজন হলেন ম্যারাডোনা ও মাচেরানো, যাদের ম্যাচসংখ্যা যথাক্রমে ২১ ও ২০।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা
দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন মেসি। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁর গোলসংখ্যা ৩১। এই সংখ্যা তাঁকে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। তবে এখানে তিনি একা নন; তাঁর বন্ধু এবং ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করেছেন ৩১টি গোল।
তাঁদের পেছনে রয়েছেন বলিভিয়ার মার্সেলো মোরেনো মার্তিনস (২২ গোল), হার্নান ক্রেসপো (১৯ গোল), চিলির অ্যালেক্সিস সানচেজ (২০ গোল) এবং উরুগুয়ের এদিনসন কাভানি (১৭ গোল)। তাঁদের সবাই বর্তমানে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।