নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভা চলাকালীন এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রায় ২০ দিন আগে ঘটলেও আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এক সভায় প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। সেই সময় খুরশেদ আলমের স্ত্রী, যিনি ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা, তাঁদের দুজনকে থামার অনুরোধ জানান। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে খুরশেদ তাঁর স্ত্রীকে থাপ্পড় মারেন। এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা চলাকালে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে এই ঘটনা ঘটে। ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যারা গতকাল সোমবার বিকেলে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খুরশেদ আলম প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে কথা বলছেন। সেই মুহূর্তে পাশে বসা তাঁর স্ত্রী তাঁকে শান্ত হতে বললে খুরশেদ তাঁর উদ্দেশে বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’ জবাবে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এর পরপরই খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখ্খা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ এরপরই তিনি শিক্ষিকা স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে বলেন, ‘বাইর হ’।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোনে কথা বলেননি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে জানান, তিনি আট বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং তাঁর স্ত্রী সেখানে পাঁচ বছর ধরে কর্মরত। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি অনুতপ্ত এবং ঘটনার সময় নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি নিজেও বিব্রত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান মুক্তকণ্ঠকে জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ের ভেতরে একজন শিক্ষক অন্য একজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারতে পারেন না। এমন অসদাচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তাঁর হাতে এসেছে এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।