গাজীপুরের টঙ্গীর আলোচিত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারাগারের মূল ফটকে তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানান তার পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক।

নুরুল আমিন টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি টঙ্গী ন্যাশনাল ফ্যান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেল কোডের ৫৬৯ ধারায় বন্দিমুক্তির যে বিশেষ বিধান রয়েছে, সেই অনুযায়ী নুরুল আমিন ২২ বছর কারাভোগ সম্পন্ন করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী তার মুক্তির আবেদনের চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর তাকে কারামুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।

দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্ত হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নুরুল আমিন বলেন, “আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে আসামি বানিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করেছে বিগত সরকার।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই শ্রমিক নেতা আরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।