কুমিল্লা জেলা গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. আ. জসিম উদ্দিনের সদস্যপদ স্থগিত করেছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের নির্দেশক্রমে জসিম উদ্দিনের সদস্যপদ স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
মো. আ. জসিম উদ্দিন কুমিল্লার স্থানীয় রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লার একটি আসন থেকে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। নির্বাচনী ময়দানে তাদের এই লড়াই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
দলীয় নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তরে লিখিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।
গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল না করলে কিংবা দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব পাওয়ার পর তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেই তার ব্যাপারে চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।