ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহান সরদার (১৮)। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো তিনিও ইউরোপের দেশটিতে পাড়ি জমাবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন আর সত্যি করার সুযোগ পেলেন না তিনি। মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের একটি পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন এই যুবক।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান সোহান। এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পুকুরের মাঝামাঝি স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সোহান সরদার পৌর শহরের পানিছত্র এলাকার বাসিন্দা এমদাদ সরদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোসল করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে গিয়েছিলেন সোহান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন যে, উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে সোহান নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে মাদারীপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর শেখ আহাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রায় এক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর পুকুরের মাঝখান থেকে সোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোহানের এই আকস্মিক প্রয়াণে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের মা শিকনি বেগম বলেন, “আমার পরিবারের সবাই ইতালিতে থাকে। কয়েক দিন পর আমার ছেলেও ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতালি যাওয়া আর হলো না, আমাদের ছেড়ে সে চলে গেল অন্য জগতে। এভাবে আমার ছেলেটা চলে যাবে, কখনো ভাবতে পারিনি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।”
মাদারীপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর শেখ আহাদুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের মাঝামাঝি স্থান থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পুকুরে ডুবে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”