গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বেশ কিছু দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মূল সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই দিন আগে গিমাডাঙ্গা গ্রামের রোমান শেখের একটি মোটরসাইকেল থেকে কিছু যন্ত্রাংশ চুরি করা হয়। পরবর্তীতে টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে গওহরডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন জড়িত ছিল। স্থানীয়রা এই বিষয়টি শনাক্ত করার পর মঙ্গলবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া কলেজ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালীন বাসস্ট্যান্ড এলাকার কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মূল সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পাওয়ার পরপরই টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ পাটগাতি বাসস্ট্যান্ডে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। এতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি দোকানের সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দিতে গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ টিম আনা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”