জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ প্রদান করেন।

আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জানান, ধনঞ্জয় কুমার দাসের বর্তমান ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়েছেন। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আসামি ধনঞ্জয় কুমার যেন দ্রুত আত্মসমর্পণ করেন, সেই লক্ষ্যে একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৫ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলার অপর আসামি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মো. জাহাংগীর আলম ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন অভিযোগ করে বলেছিলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সরকার পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। সে সময় সরকারের যেসব সভায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হতো, সেখানে উপস্থিত থাকতেন এই দুই আসামি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায় বসা ‘কোর কমিটি’র সভায় উপস্থিত থাকতেন তাঁরা। এই দুজন গণভবনে যাতায়াত করতেন। সেখান থেকে নির্দেশনা নিয়ে আসতেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে তাঁরা তদারকি করতেন। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেসব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তা প্রতিরোধে তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।”