সকালে খাবার খেয়ে বাড়ির উঠানে খেলছিল ছয় বছরের আরিয়ান খাঁ। খেলতে খেলতে একসময় সে চলে যায় বাড়ির পাশের সড়কে। সেখানেই ইট ভাঙার যন্ত্রবাহী একটি গাড়ির চাপায় প্রাণ যায় শিশুটির।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার নয়াচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আরিয়ানকে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের মৃত্যুর পর আরিয়ানের বাবা আরমান খাঁ বারবার ফিরে যাচ্ছেন সকালের সেই সময়টায়। তিনি বলেন, ‘আরিয়ান ঘরের মধ্যে দুষ্টুমি করছিল। খাবার খেয়ে বাড়ির উঠানে খেলছিল। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না।’
বাড়িতে এখন কান্না থামছে না। আরিয়ানের মা ‘আরিয়ানকে এনে দাও’ বলে শুধু কেঁদে চলেছেন। আরমান খাঁ বলেন, ‘ওর মা পাগলের মতো কান্নাকাটি করছে।’
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়া থেকে ইট ভাঙার একটি যন্ত্র নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক সদর উপজেলার তেয়ারপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। নয়াচর এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় গাড়িটি শিশুটিকে চাপা দেয়।
আরমান খাঁর অভিযোগ, গাড়িটির কোনো ব্রেক ছিল না। তিনি বলেন, ‘তবু এ ধরনের গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। এগুলো কেউ দেখার নেই। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী চালকের বিচার চাই।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গাড়িটি থ্রি-হুইলার (তিন চাকার যান) ধরনের। এসব গাড়ির কোনো বৈধতা নেই। নিহত শিশুর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।