প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করতে সম্প্রতি ‘মিউজ’ নামক একটি এআই এজেন্ট বাজারে এনেছে মেটা। এই এআই এজেন্টটি অত্যন্ত উন্নত মানের, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েব ব্রাউজ করতে পারে, জিমেইল পরিচালনা করতে পারে, ক্যালেন্ডারের কাজ সামলাতে পারে এবং এমনকি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার মতো জটিল কাজগুলোও সম্পন্ন করতে সক্ষম। তবে এই প্রযুক্তির চমকপ্রদ ক্ষমতার পাশাপাশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এক গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট ইন্টারনেটের সামগ্রিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং মারাত্মক নিরাপত্তা-সংকট তৈরি করতে পারে।
মেটা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, মিউজ এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে দিতে সক্ষম। তবে এই স্বয়ংক্রিয় কার্যক্ষমতাকে একটি নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন এমআইটির সহযোগী অধ্যাপক রমেশ ভাস্কার। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা ট্রাফিক আইন ছাড়া রাজপথে শত শত গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।” নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, মিউজ এআই এজেন্টটি কার্যকর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, অবজেক্টিভ-সি ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ওয়ার্ডেল মিউজ এআই এজেন্টের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই সিস্টেমে বিদ্যমান ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার হামলা চালিয়ে যে কেউ মিউজ এআই এজেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারত এবং এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত যন্ত্রে গোপনে প্রবেশ করা সম্ভব ছিল। যদিও মেটা কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই নিরাপত্তাত্রুটির সমাধান করেছে বলে জানিয়েছে, তবুও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর সন্দেহ রয়ে গেছে বিশেষজ্ঞদের মনে।
নিরাপত্তা গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই ধরনের এআই এজেন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এখন নতুন আইন প্রণয়ন এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এআই এজেন্টের আধুনিক সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের মূল্যও দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।