রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের আলাপ শুরু করা কঠিন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আওয়ামী লীগই এই প্রক্রিয়াটি চাচ্ছে না, তাই রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। তবে কিছু মৌলিক শর্ত নিশ্চিত করা হলে এই ধরনের আলাপ শুরু হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘...কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলটির প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তাঁর বক্তব্য...মনে হয় প্রথম কথা বলতে শুনলাম, খুব শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন।’
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ আলোচকদের একটি বিশেষ মতামতের প্রেক্ষিতে এই আলোচনা সামনে আসে। ওই অনুষ্ঠানে আলোচকেরা মত দিয়েছিলেন যে, অপরাধের বিচার করা যেমন জরুরি, তেমনি সমাজের গভীর বিভাজন দূর করতে রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলের সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহির পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশনের গুরুত্বের কথা বলা হয়।
সিজিএস আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি, দুভার্গ্যজনকভাবে দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, যাঁরা পালিয়ে গেছেন, তাঁদের কথা বলছি না। যাঁরা এ দেশে আছেন, তাঁদের মধ্যে একটি পারসেন্টেজের মানুষ, পারসেন্টেজ নিয়ে ডিবেট করতে পারি, সেই ডিবেটে যাচ্ছি না, মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থনও করেন। সুতরাং এ দেশের নাগরিক তাঁরা...সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যাঁরা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছেন, তাঁদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া নয়, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটি কী? কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়?’
পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে অপরাধের স্বীকৃতি এবং অনুতাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তথ্য উপদেষ্টা। এই বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি পুনরায় বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ করা কঠিন। তিনি বলেন, ‘তারা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’
যারা রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন প্রত্যাশা করছেন, তাঁদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাঁদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা।’