বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়াকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি কিংবা বুঝতে চায়নি জামায়াতে ইসলামী। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই কঠোর মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সামনে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “প্রতিষ্ঠার ৮৫ বছর পর এসে জামায়াত এবার প্রথম বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কারণ, সাধারণ মানুষ কী চায় তা তারা কখনোই বুঝতে চায়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় কিংবা এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—কোনো সময়েই তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এবং কাকে সমর্থন দেওয়া উচিত তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরও তারা পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারেনি।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালে এসে তারা হয়তো কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরেছিল, কিন্তু আবারও তারা খেই হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, ঢাকা শহরের সুরক্ষা এবং সাধারণ জনগণের দাবির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা বুঝতে তারা সবসময়ই অপারগ হয়েছে। এই কারণেই প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সর্বোচ্চ কেবল প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর সরকার গঠনের কথা তো অনেক দূরের বিষয়।
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ঢাকা শহরের বর্তমান যানজট এবং অটোরিকশার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের ফলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এই নীতিমালার আলোকে প্রধান সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে তিনি জানান।
দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত চালকদের মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে চালকদের কিছুটা কষ্ট হবে—এটি নিশ্চিত। তবে জনস্বার্থে ও নগরীর বৃহত্তর স্বার্থে এই অব্যবস্থাপনা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সবাইকে একমত হতে হবে।
কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা শহরকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।”