মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন এবং একটি যাত্রীবাহী বাসের এক যাত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আসলাম হোসেন (৪০), তিনি ঢাকার শাহবাগ এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, আহত ব্যক্তির নাম মো. নজরুল ইসলাম (৪৭), যার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়।
ঘটনাটির বিবরণ দিয়ে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ২৫ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে খবর আসে, ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে একটি গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।”
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনার কিছু সময় পর একই দিক থেকে আসা লিটন ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখার জন্য গতি কমিয়ে ব্রেক করে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা আবদুল্লাহ পরিবহনের আরেকটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা লিটন ট্রাভেলসের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই দ্বিতীয় সংঘর্ষের ফলে লিটন ট্রাভেলসের যাত্রী নজরুল ইসলাম আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মোটরসাইকেল আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহত বাসযাত্রীকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।”