পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) তৃতীয় আসর থেকে সরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস। পিসিবিকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও বোর্ড তাদের আগের অবস্থানেই অনড় থাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত শহীদ আফ্রিদি ও তার দলের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের মালিক কামিল খান পিসিবির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে গেলেও বোর্ড শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র প্রদান করেনি। এরপর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে দলটি।

সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস জানিয়েছে, ‘প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পিসিবি বহাল রাখায় ডব্লিউসিএলে অংশ নিতে পারছি না; এটি নিশ্চিত করতে আমরা দুঃখিত।’

পিসিবির সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানালেও এই ঘটনায় গভীর হতাশার কথা প্রকাশ করেছে দলটি। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা পিসিবির কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের এই বৈশ্বিক আয়োজনে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না; এতে স্বাভাবিকভাবেই আমরা হতাশ।’

এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত গত বছরের ডব্লিউসিএল আসরে। রাজনৈতিক উত্তেজনার backdrop-এ ভারত চ্যাম্পিয়নস পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যার ফলে দুই দলের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।

সেই ঘটনার পর টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে পিসিবি। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্রিকেটের চেতনার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলে তারা। পরবর্তীতে এই প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বোর্ড।

পিসিবির সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় এবারের আসরে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিসহ পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের কোনো খেলোয়াড় অংশ নিতে পারেননি। এমনকি ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানেও পাকিস্তান দলের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

উল্লেখ্য যে, ডব্লিউসিএলের আগের দুটি আসরেই ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস। ২০২৪ সালের প্রথম আসরে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরে তারা রানার্সআপ হয়। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪২ রানে হেরে আবারও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল পাকিস্তান।