দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে সরকারের চরম অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট একটি স্মারকলিপি এবং বিশেষ আইনের খসড়া জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি প্রদান করে। উক্ত প্রতিনিধি দলে হাসনাত কাইয়ূম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “অহিংস গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন বহুদিন ধরে পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন বানানোর কথা বলছে। ভূমিহীন আন্দোলন প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য লড়াই করছে। আমরা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বলছি অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। এই ইস্যুতে আমাদের তিন সংগঠন বহুদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছে।”

তার দাবি অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা ছিল বেকারত্ব হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সংকট নিরসন করা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার কিংবা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে মূলধন নিশ্চিত করতে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “উপরন্তু আমরা যখন সে দাবিতে মাঠে নামতে চেয়েছি, আইনের খসড়া দিয়ে সরকারকে সহায়তা করতে চেয়েছি, তখন সরকার পুলিশ ব্যবহার করে আমাদের থামিয়েছে।”

হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম যে সমাবেশটি পুলিশি বাধা দেওয়ার কারণে বাতিল হয়ে যায়, সেটি ছিল তাদের তিন সংগঠনের অর্থনৈতিক সংস্কার সংক্রান্ত গণসমাবেশ। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অর্থনৈতিক সংস্কার, পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী আলাপে সরকারের কেন এত গা জ্বলে?”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বাধা ও প্রতিবন্ধকতা মূলত দুর্নীতিবাজ, পাচারকারী এবং লুটেরাদের সুবিধা দেওয়ারই একটি কৌশল। সরকার যদি দ্রুত এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে উদ্যোগী না হয়, তবে আগামী দিনে সাধারণ মানুষই সংসদ দখল করে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে বাধ্য হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

প্রতিনিধি দল কর্তৃক প্রস্তাবিত আইনের প্রধান দাবিগুলো নিম্নরূপ:
১. লুটপাট ও অর্থ পাচার বন্ধ করতে এবং পাচার করা টাকা ফেরত আনতে বিশেষায়িত স্বাধীন সংস্থা গঠন করতে হবে।
২. সকল লুটপাটকারী ও পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৩. বেকারত্ব নিরসনে উদ্ধারকৃত টাকা প্রান্তিক জনগণের মাঝে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে।
৪. দুর্নীতিবাজ এবং পাচারকারীদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ বিক্রি করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার হাবিব রাজা ও ফরিদুল ইসলাম, নারী বিষয়ক সহ-সম্পাদক মনোয়ারা রহমান, নদী, পরিবেশ, জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ রানা। এছাড়া অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক রাশিদা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহম্মেদ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।