রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করা হয়। সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে রাত ১১টার পর আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করেন।
এর আগে একই দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কর্মরত সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা ‘বাহ ভিসি চমৎকার, সন্ত্রাসীদের পাহারাদার’, ‘টোকাইরা হামলা করে, প্রশাসন কী করে’, ‘ছাত্রদল হামলা করে, প্রশাসন কী করে’, ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, হামলায় জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে। এটিই ছিল তাদের প্রাথমিক ও প্রধান দাবি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনার আহ্বান জানানো হয় এবং পরবর্তীতে প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনার পর গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারী ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এই আলোচনায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা মোট ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো: জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং আজকের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে; হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে; আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে; যাঁদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিল করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে; শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ ক্যামেরা ফুটেজ ডিলিট করে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেওয়ায় তাকে প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ করতে হবে।