রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে আরও চার নেতার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং তিন নেতাকে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) আরিফুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটি আরও চারজনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তারা হলেন— রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদল কর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমান।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই তিনটি সিদ্ধান্ত আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেটে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং যাঁদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিল করতে হবে।’
উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে একটি লিখিত প্রতিবেদন তৈরি করে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বিবেচনা করেই আজ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এসব শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানান।