মাদকের ভয়াবহতা গভীরভাবে উপলব্ধি করে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের বাসিন্দা শুকুর আলী। দীর্ঘ সময় ধরে মাদক সেবনের পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি স্বেচ্ছায় থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শুকুর আলীকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুকুর আলী নিজেই সৈয়দপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি সৈয়দপুর শহরের নিচু কলোনি রাইসমিল পাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা নবাব আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির কারণে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। এক পর্যায়ে এই অন্ধকার পথ ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফেরার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শুকুর আলীর বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নবাব আলী জানান, ছেলের মাদকাসক্তির পেছনে অর্থ জোগাতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাদকাসক্তির ফলে পরিবারে অশান্তি ও নানা সংকট তৈরি হয়। এমনকি তার দুই নাবালক সন্তানও বাবার এই অভ্যাসের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। স্বামীকে মাদকের নেশা থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে শুকুর আলীর স্ত্রীও তার বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানান নবাব আলী।
নিজের অনুশোচনার কথা জানিয়ে শুকুর আলী বলেন, “মাদক সেবনের কারণে অঅমার পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি সমাজেও নানা ধরনের অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এসব বিষয় উপলব্ধি করেই আমি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাজা ভোগের পর আর কখনো মাদকের পথে না যাওয়ার অঙ্গীকার করেছি।”
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, কেউ যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, শুকুর আলী গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করতেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, মাদক সেবনের পেছনে তার প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হতো। ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক গ্রহণের কথা জানা গেছে। আমরা তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের সাজা দিয়েছি।