বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দুবাজার এলাকায় পর্যটকবাহী একটি জিপগাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাঁদের গাড়ি’ নামে পরিচিত, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই পর্যটক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানতে contacted করা হলে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আটজনের একটি পর্যটক দল চাঁদের গাড়িতে করে আলীকদম থেকে তিন্দুবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়।”
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ক্রানি অং মারমা জানিয়েছেন, তিন্দুবাজারের মাত্র আধা কিলোমিটার আগে একটি খাড়া পাহাড়ি সড়ক দিয়ে নামার সময় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, তিন্দুবাজার এলাকাটি সাঙ্গুনদের রাজাপাথর বা বড়পাথর এলাকায় অবস্থিত। সাঙ্গুর উজানে রাজাপাথর হয়ে রেমাক্রী এবং নাফাখুমে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পর্যটকেরা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করে থাকেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফল ব্যবসায়ী মো. বেলাল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহত দুই পর্যটকের নাম মো. জসীম ও মো. জিয়াবুল। তাঁরা উভয়েই কক্সবাজারের খুটাখালী এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. রাসেল, লিটন শিকদার, কাদের হোসেন, শাহজালাল হোসেন এবং মো. লিটন।
বিজিবি বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসির আরাফাত তাঁর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিন্দু বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পরপরই বিজিবির সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন এবং তাঁদের চিকিৎসার জন্য আলীকদম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে নিহত দুজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
থানচি থানার ওসি কানন সরকার আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার জন্য তাঁরা তিন্দুর দিকে যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।