ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় প্রায় ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ইউনি-ব্লক সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রদত্ত নোটিশে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের যাবতীয় ত্রুটি সংশোধনের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে ইতিমধ্যে পরিশোধ করা বিলের অর্থ ফেরত আদায়সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়াইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে বাঁকাইল ঈদগাহ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ফরিদপুর সদরের কোমরপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গ্রিন কনস্ট্রাকশন এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সড়কের ভিত্তি তৈরির সময় ডাব্লিউবিএম (WBM) স্তরে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই পৌরসভার পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে সড়কের কাজে ব্যবহৃত মানহীন নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণ করে অনুমোদিত মানের সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পৌরসভা সূত্রের দাবি, নির্দেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক থেকে নিম্নমানের খোয়া যথাযথভাবে অপসারণ করেনি।
পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর আরএমএসইউ-এর রিজিওনাল সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় পুনরায় সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তাকে সড়ক থেকে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ এবং অনুমোদিত সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ অব্যাহত থাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেয়। নোটিশে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো সড়ক থেকে নিম্নমানের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন করতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে ইতিমধ্যে পরিশোধ করা বিলের অর্থ ফেরত আদায়সহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে, প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ, বরাদ্দের পরিমাণ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও কাজের মেয়াদ উল্লেখ করে কোনো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মেয়াদ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স গ্রিন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এস এম কোবাদ বলেন, “চিঠিতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজ শেষে কর্তৃপক্ষ যাচাই করে বুঝে নেবে।”
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম জানান, কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঠিকাদারকে একাধিকবার কাজ বন্ধ এবং নির্মাণসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করায় চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। পৌরসভার কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। মানহীন নির্মাণসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”