জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের সংগঠন 'জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্স'-এর আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সালমান হোসেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাসিবুল হাসানকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাকে সংগঠনটির উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রেরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবগঠিত এই কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।
জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন।
সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘটনার নিন্দা জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় ছয় থেকে সাতটি গণমাধ্যমের সাংবাদিককে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের মারধর, আহত করা এবং তাদের ‘পুঁতে ফেলার’ মতো হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এই হামলা ক্যাম্পাসে পুনরায় সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার স্থানে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের রক্তাক্ত করা কোনো সুস্থ ছাত্ররাজনীতির অংশ হতে পারে না। এ ধরনের হামলা শুধু মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে তারা ছাত্ররাজনীতিকে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অসহিষ্ণুতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ছাত্রশিবিরের নেতারা দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রকৃত ঘটনাবলি স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার সময় উপস্থিত থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।