রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিএজেআইএম)। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই ঘটনার প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে। বিএজেআইএম মনে করে, এই ঘটনাটি কেবল ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের জানার মৌলিক অধিকারের ওপর একটি সরাসরি আঘাত।
গত রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা চালানো এক হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিএজেআইএম তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, সাংবাদিকদের মারধর করা, তাঁদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা ঘটনার দৃশ্য ধারণে বাধা দেওয়ার মতো কাজগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো ঘটনার প্রমাণ মুছে ফেলা এবং সাধারণ মানুষ কী দেখতে পাবে তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা।
অতীতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দ্বারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএজেআইএম বলেছে, “কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জায়গায় আরেকটি সংগঠন একই ধরনের ভয়ভীতি ও জবরদস্তির সংস্কৃতি চালু করলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো অর্থ থাকে না।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএজেআইএম। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, এই অভ্যন্তরীণ তদন্ত কোনোভাবেই স্বাধীন ফৌজদারি তদন্তের বিকল্প হতে পারে না। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আহত সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি এবং হামলার ঘটনাটি যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বিএজেআইএম। এছাড়া অন্যান্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে যেন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংরক্ষণ করার এবং আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে বা অন্য কোথাও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সহিংসতা, ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কার ক্ষমতায় থাকা বা কোনো সাংবাদিক কার কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ করছেন, তার ওপর নির্ভর করতে পারে না।