‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস বা World Habitat Day। প্রতি বছরের নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার এই বিশেষ দিবসটি উদযাপিত হয়।

নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত বাসস্থানের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব বসতি দিবস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।

বর্তমান বছরের দিবসটি উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক।

দিবসটির গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে আজ বিকেল ৪টায় জিয়া উদ্যানের ক্রিসেন্ট লেক গ্লাস ব্রিজ এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে। এই র‌্যালিটি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে সমাপ্ত হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে তিন দিনব্যাপী একটি আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলায় রিহ্যাব, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থা অংশগ্রহণ করছে। আবাসন, নির্মাণ এবং ব্যাংকিং সেবা প্রদর্শনের জন্য মেলায় মোট ১৫৭টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ, টেলিভিশন ও রেডিওতে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়। এই দিবসের প্রথম বারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘বাসস্থান আমার অধিকার’। আর এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ বাস্তবায়ন করা।