রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
গত রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ এবং সংবাদ সংগ্রহের প্রচেষ্টার সময় ছয় থেকে সাতজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা, তাদের আহত করা এবং ‘পুঁতে ফেলার’ মতো হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তারা মনে করেন।
ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এই হামলা ক্যাম্পাসে পুনরায় সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতির ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা তাদের বিবৃতিতে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার স্থানে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের রক্তাক্ত করা কোনো সুস্থ ছাত্ররাজনীতির অংশ হতে পারে না। এ ধরনের হামলা শুধু মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত।”
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে তারা ছাত্ররাজনীতিকে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অসহিষ্ণুতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ছাত্রশিবিরের নেতারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রকৃত ঘটনাবলি স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে এই হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং হামলার সময় উপস্থিত থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।