টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সভাপতি করে জেলা দলিল লেখক সমিতির যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তীব্র সমালোচনার মুখে তা এক দিন পরেই বাতিল করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, যে সমাবেশের মাধ্যমে এই বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। এই ঘটনার পর তিনি নিজের দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকেও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার জেলা রেজিস্ট্রার অফিস চত্বরে সমিতির উদ্যোগে একটি ‘দলিল লেখক সমাবেশের’ আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এ রশীদ এবং মহাসচিব কে এস হোসেনসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখকেরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশের এক পর্যায়ে জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হিসেবে হুমাযুন রশীদ ওরফে সোনা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খন্দকার জাহিদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে নাম ঘোষণার সাথে সাথেই সমিতির সদস্যদের একটি বড় অংশ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন রশীদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণআন্দোলনের সময় দুটি হত্যাসহ সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জেল হাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
সমিতির সদস্য মো. রেজাউল রহমান জানান, হুমায়ুন রশীদের নাম সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হলে তিনি এবং তাঁর সহকর্মী সদস্যরা চরম বিস্মিত হন। এই কারণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করেন এবং নতুন এই কমিটিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন।
কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্য কায়সার রহমান ফেসবুকে জেলা বিএনপির সভাপতির প্রতি ইঙ্গিত করে লিখেছেন, “২৪-এর আগস্টে মারুফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা আকন্দর কাছে কত টাকার বিনিময়ে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে আপনি বিক্রি করেছেন?”
এই পুরো বিতর্কিত পরিস্থিতি নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, “৭ দফা দাবিতে দলিল লেখকদের সমাবেশ ছিল। সেখানে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। ওই সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি, মহাসচিব ছিলেন। তাঁরাই কমিটি ঘোষণা করেছেন। দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন বা ঘোষণার এখতিয়ার আমার নেই।”