ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল বারী ওরফে রুবেল চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রোববার যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেসবুকে সরকার এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বিষয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রফিকুল বারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, যখন রফিকুল বারী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার মনে কষ্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’। তবে তাঁর মনে কষ্টের প্রকৃত কারণ কী অথবা কোন প্রেক্ষাপটে তিনি এই দাবি জানিয়েছেন, তা ওই পোস্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে রফিকুল বারী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও ক্ষতি হচ্ছে।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও জানান, ‘আমি যুবদল থেকে বহিষ্কার হয়েছি, কিন্তু বিএনপি থেকে নয়। পদ-পদবি ও দলীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য আমি দল করি না। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে সেই শুরু থেকেই ছাত্রদল করেছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বিএনপি করেই যাব, সত্য কথা বলেই যাব।’
এদিকে সখীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল আজ সোমবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে জানান, ‘যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি রুবেল চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি গতকাল রাতে আমরা পেয়েছি। এর আগেও তাঁকে দল থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সংশোধন হননি।’
শনিবার রাতে ফেসবুক থেকে বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলেছেন বলে দাবি করেন রফিকুল বারী। আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি পুনরায় তাঁর দৃঢ়তা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি যুবদল থেকে বহিষ্কার হয়েছি, কিন্তু বিএনপি থেকে নয়। পদ-পদবি ও দলীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য আমি দল করি না। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে সেই শুরু থেকেই ছাত্রদল করেছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বিএনপি করেই যাব, সত্য কথা বলেই যাব।’