পিরোজপুর শহরের নড়াইলপাড়ায় অবস্থিত নিউ ফেয়ার হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার বিরুদ্ধে। তার অর্জিত ডিগ্রি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানের খবর পেয়েই সিভিল সার্জন পৌঁছানোর আগেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান ওই কথিত চিকিৎসক। অভিযানের সময় তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া যায়নি।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির নামে লাগানো সমস্ত ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় যেন ভবিষ্যতে তাকে দিয়ে আর কোনো রোগী না দেখানো হয়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া তার ভিজিটিং কার্ড এবং বিভিন্ন প্রচারসামগ্রীতে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধাকে এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন), ডিইউএমএস (ইউনানি মেডিসিন) ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে চর্ম, যৌন, কুষ্ঠ, অ্যাজমা ও অ্যালার্জি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি যাচাই করতে গিয়ে ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে। সূত্রটি আরও জানায়, তিনি ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএস এবং ডার্মাটোলজিতে এমডি ও পিএইচডি করার দাবি করেন। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি চেম্বার করে আসছিলেন।
ওই সূত্র আরও দাবি করে যে, ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএসের ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী এন এম হক ওরফে ডা. সাইদুর রহমানকে ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মো. গোলাম মাসুদ মৃধার অর্জিত ডিগ্রিগুলো ভুয়া বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই চলে যান। তিনি প্রতি রোববার পিরোজপুরে রোগী দেখেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। খুলনায়ও তার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আর এখানে রোগী দেখানো হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এরপরও তিনি রোগী দেখাতে এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযান চলাকালীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে রোগী না দেখানোর জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং তার নামে থাকা সব প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কথিত চিকিৎসক মো. গোলাম মাসুদ মৃধার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।