পৈতৃক জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে এক নারীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধানক্ষেতে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হোসেন আলীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর বয়স ৩২ বছর।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় ওই নারী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত হোসেন আলী আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং মদনপুর ফকিরটারী গ্রামের মৃত তসর উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিজমা নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের বিষয়ে ইতিপূর্বে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় উক্ত বিরোধটি সমঝোতা করে দেওয়ার কথা বলে হোসেন আলী ওই নারীকে তার বাড়ির পাশে অবস্থিত মুরগির খামারে ডেকে নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, খামারে উপস্থিত তার সহযোগী দুলু মিয়ার সহায়তায় হোসেন আলী ওই নারীকে পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

সেই মুহূর্তে ওই নারী তীব্র বাধা দিলে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তাকে মারধর করে বিবস্ত্র করেন। তারা ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে কাদা ও রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী বলেন, “ভাই-বোনের বিবাদ মেটানোর কথা বলে হোসেন আলী ডেকে নেন। সেখানে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে আমাকে ধানক্ষেতের আইলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এতে রাজি না হওয়ায় ইউপি সদস্য ও তার সহযোগী আমার শরীরে কামড়ে রক্তাক্ত জখম করেন।”

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য হোসেন আলী। তিনি দাবি করেন, “আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি তখন মুরগির খামারে কেনাবেচায় ব্যস্ত ছিলাম।”

ঘটনাটি সম্পর্কে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, ঘটনার সঠিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।