সিলেটের সরকারি মদনমোহন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সিলেট জেলা শাখার সভাপতি করা হয়েছে। সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েও রাজনৈতিক দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় কলেজের অভ্যন্তরে এবং বাইরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর মো. মনিরুল ইসলামকে সভাপতি এবং শিহাব উদ্দিন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সিলেট জেলা শাখার ১০৫ সদস্যের একটি (আংশিক) কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। এই কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সমন্বয়ে জেলা কমিটি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি (সরকারি কলেজের শিক্ষকের সভাপতি হওয়া) আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নেব।’

উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না কিংবা অন্য কোনোভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। এছাড়া দেশে বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে কোনো উপায়ে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করাও তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ।

সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলের পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নন-ক্যাডার, ক্যাডারভুক্ত শিক্ষক নই। ফলে আমাদের রাজনীতিতে যুক্ত হতে বাধা নেই। এ ছাড়া আমি আগে থেকেই পলিটিকসে আছি। সেই হিসাবেই এটাতে (মুক্তিযোদ্ধা দল) যুক্ত। আমি ১৯৮৮ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করেছি। আমি এমসি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। মহানগর বিএনপির কমিটিতেও দুবার ছিলাম। বর্তমানে সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে আছি।’

অন্যদিকে, মদনমোহন কলেজের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ওই শিক্ষক সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের মতে, তাঁর এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা উচিত নয়।