কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় গুলিবিদ্ধসহ মোট দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সাবরাং ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকায়। আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে; তারা হলেন সিকদারপাড়া এলাকার মৌলভী আব্দুল গফুরের ছেলে হেলাল (২৫) এবং একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সব্বিরের ছেলে মো. হারুন (২৯)।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তোফাইলের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায়। সেই সময় হেলাল গুলিবিদ্ধ হন এবং হারুন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সাবরাং ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার মৌলভী গফুরের পরিবারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পানছড়িপাড়া এলাকার আলু গোলার পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ে অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যাতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউপি সদস্য শামসু মেম্বারের ভাই তোফাইল এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মৌলভী গফুরের ছেলে রাসেল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবার এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই দীর্ঘমেয়াদী বিরোধের সৃষ্টি। মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, এই বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই মাদক কারবারে সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মরিয়ম ইসলাম জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধসহ দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হেলালের কোমরের ডান পাশে গুলির আঘাত রয়েছে এবং হারুনের মাথা ও বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাবরাং বাজারে দুপক্ষের কথা-কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”